Skip to content
Dhaka29°C
YouTubeFollow
LIVEকক্সবাজারে সন্ধ্যার পর বখাটে ও মাদকসেবীদের উৎপাত, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পর্যটকরা৩০০ ফিট এলাকা থেকে যুবলীগের এক নেতা আটকআবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহারতাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিসঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল, এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টিদায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীআশুলিয়ায় পৃথক অভিযানে ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেফতার ৪, মাদক উদ্ধারPCOS PMOS: Decade-Long Renaming Effort Reflects Broader Understanding of the Condition

কোহলির ব্যাটে চড়েই আরসিবির দ্বিতীয় শিরোপা

‘এ সালা কাপ নামদে’—বছরের পর বছর ধরে আরসিবি সমর্থকদের কণ্ঠে উচ্চারিত সেই স্লোগান যেন আবারও প্রতিধ্বনিত হলো স্টেডিয়ামজুড়ে। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানটি এলো বিরাট কোহলির ব্যাট থেকেই।

আরশাদ খানের লেংথ বলটিকে লংঅনের ওপর দিয়ে তুলে মারতেই ১২ বল আগেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি)। ছক্কায় বলটি সীমানা পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারির দিকে তাকিয়ে দুই হাত কাপের আকৃতিতে নাড়াতে থাকেন কোহলি।
যেন বলতে চাইলেন, শিরোপা আবারও বেঙ্গালুরুতেই থাকছে।
মুহূর্তের মধ্যেই ডাগআউট থেকে ছুটে আসেন সতীর্থরা।

কেউ কোহলিকে জড়িয়ে ধরছেন, কেউ আনন্দে দৌড়াচ্ছেন মাঠজুড়ে। গ্যালারিতে তখন লাল-কালো সমুদ্রের উচ্ছ্বাস।
টানা দুই শিরোপা জয়ের আবেগ, স্বপ্ন যেন একসঙ্গে বিস্ফোরিত হলো সেই মুহূর্তে। ক্রিজের এক কোনায় দাঁড়িয়ে ছিলেন শুভমান গিল। মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, শুধু নীরবে দেখছিলেন প্রতিপক্ষের উল্লাস। ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গের হতাশা তখন স্পষ্ট গুজরাট শিবিরে। এরপর আকাশজুড়ে শুরু হয় রঙিন আতশবাজির ঝলকানি। আলো, শব্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।

আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারের চিত্রই যেন আবার দেখা গেল ফাইনালে। আরও একবার বোলিং দাপটে গুজরাট টাইটান্সকে চাপে ফেলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। গুজরাটকে ১৫৫ রানে আটকে দেওয়ার পর বিরাট কোহলির দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএলের শিরোপা ঘরে তোলে তারা। ১৮ বছর শিরোপাহীন থাকার দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত আসরে প্রথম ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু। এক বছর পর সেই সাফল্য ধরে রেখে নতুন ইতিহাস গড়ল তারা।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে চলতি আসরের সেরা দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল শিরোপার লড়াইয়ে। একদিকে আরসিবির সামনে ছিল টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাতছানি, অন্যদিকে মাত্র পাঁচ বছরে চতুর্থ প্লে-অফ ও তৃতীয় ফাইনাল খেলে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের সুযোগ ছিল গুজরাটের সামনে। তবে সেই সুযোগ আর পায়নি গিলের দল। ১৫৬ রানের মামুলি লক্ষ্যের বিপরীতে খেলতে নেমে দুই ওভার আগেই ৫ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে আরসিবি।

কোহলির ব্যাটে চড়েই আরসিবির দ্বিতীয় শিরোপা

এদিন ১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে আরসিবি। ওপেনিং জুটিতে ঝড় তোলেন বিরাট কোহলি ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার। ১৬ বলে ৩২ রান করে আইয়ার ফিরে গেলেও ততক্ষণে দলকে শক্ত ভিত এনে দিয়েছিলেন তিনি। ৪.৩ ওভারে ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় বেঙ্গালুরু। এরপর এক রানের ব্যবধানে ফিরে যান দেবদূত পাড়িক্কাল।

দুই উইকেট দ্রুত হারালেও বিচলিত হননি কোহলি। রজত পাতিদারকে নিয়ে ২৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। কোয়ালিফায়ারে গুজরাটের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলা পাতিদার এবার ১৫ রান করে ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন কোহলি। ক্রুনাল পান্ডিয়াও বেশি কিছু করতে পারেননি। ৯১ রানে চার উইকেট হারানোর পর ম্যাচে কিছুটা ফিরতে চেয়েছিল গুজরাট। কিন্তু তাদের সেই আশা ভেঙে দেন কোহলি। পঞ্চম উইকেটে টিম ডেভিডকে নিয়ে ৪১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। পরে জিতেশ শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ২৯ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। জয়ের রানটিও আসে তার ব্যাট থেকেই।

পুরো ইনিংসজুড়ে ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত। ৪২ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন কোহলি। ফাইনালের মঞ্চে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠেন তিনি। আর তার ব্যাটেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএল ট্রফি উঁচিয়ে ধরার আনন্দে মাতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় গুজরাট। চলতি আসরে গুজরাটের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা ছিলেন শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই দুইজনই হয়েছেন ব্যর্থ। হ্যাজলউডের বলে পুল শট খেলতে গিয়ে ১০ রান করে আউট হন শুভমান অন্যদিকে ভুবনেশ্বরের বাউন্সারের ফাঁদে পড়েন সাই সুদর্শন। ১২ রান করে উইকেটরক্ষক জিতেশ শর্মার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।

শুরুর এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি গুজরাট। তৃতীয় উইকেটে নিশান্ত সিন্ধু ও জস বাটলার ইনিংস গড়ার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। রাসিখ দারের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন নিশান্ত। পাওয়ার প্লের পর টানা ছয় ওভার কোনো বাউন্ডারি পায়নি গুজরাট। রান তোলার গতি কমে যাওয়ায় বাড়তে থাকে চাপ।

চাপ কাটাতে ক্রুনাল পান্ডিয়ার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন বাটলার। তাতেই কাটা পড়েন ২৩ বলে ১৯ রানের ইনিংস খেলে। পুরো ম্যাচে একজনই কেবল প্রতিরোধ গড়তে পেরেছেন। যদিও ওয়াশিংটন সুন্দরও শুরুতে জীবন পেয়েছিলেন। জ্যাকব ডাফির বাউন্সারে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। তবে জর্ডন কক্স ক্যাচটি নিয়েও ধরে রাখতে পারেননি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। তার ব্যাটেই গুজরাট ১৫৫ রান তুলতে পারে। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে অপরাজিত ৫০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

আরসিবির বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রাসিখ দার। তিনি নিয়েছেন ৩ উইকেট। হ্যাজলউড ও ভুবনেশ্বর কুমার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।