
আগামী ১২ জুন চীনের সাংহাই শহরে শুরু হবে উৎসবটি, যা চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র জানিয়েছে, ১৫ জুন এই উৎসবেই অনুষ্ঠিত হবে চলচ্চিত্রটির বিশ্বপ্রিমিয়ার।
ছবিটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ। প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অভিনয়শিল্পী মনোজ প্রামাণিক। এটি পরিচালক, প্রযোজক এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র—সবারই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের মনপাচিত্র এবং জার্মানির মোগাডার ফিল্মের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ছবিটি।
‘সাঁকোটা দুলছে’ গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীর জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরে। কুসংস্কার, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা এবং সামাজিক নিপীড়নের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তাদের জীবনের প্রধান অনুষঙ্গ। জীবনের নানা বেদনাময় ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার মধ্য দিয়ে এক অন্ধ তরুণী শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস খুঁজে পায় এবং এক রহস্যময় হাতির মুখোমুখি হয়।
সম্পূর্ণ সাদাকালো চিত্রভাষায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে নারীর জীবন, বিশ্বাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নকে গ্রামীণ বাংলাদেশের বাস্তবতার আলোকে কাব্যিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ বলেন, গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেখেছেন কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধ কীভাবে নারীদের জীবনকে প্রভাবিত করে। সেই বাস্তব অভিজ্ঞতাই এই চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুপ্রেরণা। তাঁর মতে, সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া পুরো দলের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক জানান, সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবাজ তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীকে সঙ্গে নিয়েই তারা এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নেওয়া তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার প্রতি অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।
প্রায় ৮০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া হক, অশোক ব্যাপারী, সাবিহা জামান, পঙ্কজ মজুমদার, মুনসিফ মিম, নিশাত তাসনিম, মামুন রেজা, রবিউস সানি, ফয়সাল, পিয়াল সরকার এবং রিজওয়ান তক্তিম।
নির্মাতারা জানিয়েছেন, সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর ছবিটি বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেবে। পরবর্তীতে দেশের দর্শকদের জন্যও চলচ্চিত্রটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।