
বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান। ব্রেন্ডান লিঞ্চ-এর নেতৃত্বে আসা ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। সরকার মনে করে, যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, বিদ্যমান চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই ধাপে ধাপে পরামর্শ বা কনসালটেশন চালানোর সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও গভীর করা যায় এবং যৌথভাবে কাজের ক্ষেত্র বাড়ানো যায়—এসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, বৈঠকে ওষুধ শিল্প এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার বাণিজ্যকে একক নির্ভরশীলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং বহুমুখীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চায়। নতুন বাজার সৃষ্টি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো একচেটিয়া সম্পর্কের নীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, কোরিয়া সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে কনসালটেশন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, এসব পরামর্শ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।